জীবনবোধ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার

বিনিময় : ২০ (বিশ) টাকা

-মাসিক মুসলিম নারী

 

সম্পাদকীয়/৩
দরসে কুরআন/৪
হাদীসের আলো/৬
প্রবন্ধ
ঈদুল আযহার সামাজিক তাৎপর্য- ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন/৯
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা (পর্ব ২) – ড. আহমদ আবদুল কাদের/১১
শরীয়তের আলোকে যিনা-ব্যভিচার ও ধর্ষণের প্রতিকার- মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী/১৩
রোযা কবুল হলেই ঈদের স্বার্থকতা-মাওলানা লিয়াকত আলী/১৬
আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় (৫ম পর্ব)- মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম/১৯
পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ উদযাপন ও কিছু কথা-মুফতি উবায়দুল হক খান/২১
হাদীস চর্চা ও সংরক্ষণে মুসলিম নারীর অবদান- আহমদ শফী আশরাফী/২৮
ঈদুল ফিতরে করণীয় ও বর্জনীয়- শরিফ আহমাদ/৩১
নবীজির মাক্কী জীবন ও তার থেকে শিক্ষা- ইসমাঈল সিদ্দিকী/৩৩
ইসলাম ও সুদ- জাকারিয়া মাহমুদ/৩৪
মৃত ব্যক্তিকে নিয়ে ভিত্তিহীন যত কাজ- মোঃ আমিরুল ইসলাম/৩৬
ঈদ থেকে আমাদের শিক্ষা-মুফতি আশিকুল্লাহ মাহমুদ/৩৭
আগুন কেন পুড়ালো না নমরূদের কন্যাকে- মুহিব্বুল্লাহ কাফি/৩৯
শাওয়াল মাসের ছয় রোযার গুরুত্ব ও ফযীলত- মুফতী খন্দকার আমিনুল ইসলাম আবদুল্লাহ/৪০

বই পরিচিতি : ইসলামী আন্দোলন ও সাফল্য- মাসউদুল কাদির/২৪
জীবন জিজ্ঞাসা : প্রশ্নোত্তর/২৫
স্বাস্থ্য : ঈদ আনন্দের মধ্যেই চাই স্বাস্থ্য সতর্কতা -ডা. মুহাম্মদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ/২৯
সোনালী পথ : আত্মশুদ্ধির মোযাকারা-যেভাবে গড়বেন সুখের সংসার (৫ম পর্ব)- হযরতুল আল্লাম মুফতি শহীদুল্লাহ সাহেব (দা.বা.)/৩০
গল্প : মমতার বন্ধন- মেরাজুল ইসলাম শওকত/৪১
বেদনার খামে বিষাদের চিঠি- শামসুল আরেফীন/৪১
কাঠমিস্ত্রী মুহসিন আলমÑ নাঈমুল হাসান তানযীম/৪২
রাখাল ছেলেটি- মারিয়াম আফিফা/৪২
আনন্দ বেদনা- মুহাম্মাদ রাহাতুল ইসলাম/৪৩
একা আমার গল্প- রাফসা ঋতু/৪৪
কবিতা ও ছড়া : ঈদ এসেছে!- তাওহীদ ইসলাম, ঈদুল ফিতর- মুহাম্মদ আলম জাহাঙ্গীর, চিঠি- ইসমত আরা সুপ্তি, খুশির ঈদ- চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু, রোযার শেষে সবার জন্য- আব্দুল্লাহ আল মুহসিন, ইস্তিগফার-
শেখ জাবেদ, ইশকের কালাম-আসআদ শাহীন/৪৪-৪৫
সোনালি পাঠশালা : প্রার্থনার আনন্দ অসাধারণ/ (৩)- ড. সালেহ মতীন/৪৬
সোনালী তরী : আপনি কেন হতাশ হবেন?-সাআদ যুলকরনাইন/৪৭
ঘ্যান ঘ্যানে স্বভাবের পরিণতি- আকিব শিকদার/৪৭

 

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অশেষ মেহেরবাণীতে মাসিক মুসলিম নারীর এপ্রিল ২০২৫ সংখ্যা প্রকাশিত হচ্ছে। মাহে রমযানুল মোবারকের সিয়াম সাধনার মাধ্যমে পুতপবিত্র হওয়ার পর আমরা ঈদুল ফিতরের মাধ্যমে আবার স্বাভাাবিক জীবনে পদার্পণ করলাম। তাছাড়া এ মাসের ১৪ তারিখ বাংলা নববর্ষ। সে হিসেবেও আমরা নতুন বর্ষপঞ্জী অনুসরণ করে জীবনযাপন করতে যাচ্ছি।

বিশ^প্রকৃতিতে আল্লাহর ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী অত্যন্ত মাহাত্ম্যের মাস রমযান কখনো ঊনত্রিশ দিনে আবার কখনো ত্রিশ দিনে হবে। কিন্তু এ মাসে ইবাদতের বিনিময়ে মুমিন বান্দাদের জন্য যে প্রতিদান বরাদ্দ আছে তাতে ঘাটতি হবে না। পুরো এক মাস রোযা পালনের বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা যে পুরস্কার তার প্রিয় বান্দাদের জন্য ঘোষণা করেছেন তা যেমন তিরিশ দিনের মাসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তেমনি ঊনত্রিশ দিনের মাসের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। প্রতিটি ইবাদতের বদলা হিসেবে অন্য মাসের তুলনায় অনেক বেশি প্রতিদান লাভের মাস একদিন কম হলে মুমিন বান্দাদের দুঃখ হতে পারে। একদিন সময় বেশি পেলে আরো বেশি সওয়াব লাভ করা যেত বলে তারা মনে করতে পারেন। তাই নবী কারীম (সা.) সান্ত্বনা দিয়েছেন ও আশ^স্ত করেছেনÑ দিনের সংখ্যা কম হলেও পুরস্কার পুরোমাত্রায় পাওয়া যাবে- যদি ঈমান ও ইহতিসাবের শর্ত পূরণ করে মাহে রমযানের জন্য নির্ধারিত হুকুম পালন করা হয় ।

আল্লাহ দেখতে চান বান্দার নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা। রমযানের চাঁদ দেখা গেলে রোযা রাখা শুরু করতে হবে। শাওয়ালের চাঁদ দেখা গেলে রোযা রাখা ক্ষ্যান্ত করতে হবে। আল্লাহ তাআলার এই হুকুম পালন করা হয়েছে কি না সেটিই দেখার বিষয়। মুমিনের প্রবৃত্তিসমূহকে অশুভ প্রবণতা থেকে পরিশুদ্ধ করতে, মানব প্রকৃতিকে ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীর মোহ থেকে বিমুখ করে আখেরাতমুখী করতে, মুসলমানের জীবনে নিয়মানুবর্তিতা আনতে এবং মানবসমাজে সম্প্রীতি ও সহানুভূতির চেতনা জাগাতে অত্যন্ত কার্যকর ইবাদত সিয়াম সাধনা। আমাদের জীবনে স্বাভাবিকতা আসার পরেও যদি রমযানের বিশেষ নেক আমলগুলো চালু রাখা যায়, তাহলে অনেক সুফল পাওয়া যাবে। মাহে রমযানুল মোবারক অতিবাহিত হয়ে গেলেও এসব আমল ও ইবাদত অব্যাহত রাখা আমাদের অবশ্য কর্তব্য।

এরপর বাংলা নববর্ষ। বর্ষ পরিক্রমা প্রসঙ্গে কুরআনুল কারীমে রয়েছে- ‘তিনি সূর্যকে প্রচণ্ড দিপ্তি দিয়ে/চাঁদ বানিয়ে দিলেন স্নিগ্ধতা ভরে/বছর গণনা ও হিসাবের তরে।’ (কাব্যানুবাদ, সূরা ইউনুস : আয়াত ৫)
জানা যায়, বখতিয়ারের বাংলা বিজয়ে হিজরী সন রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পেলে চন্দ্র মাস ভিত্তিক বছরে ১০/১১ দিনের তারতম্যে সন তারিখের হিসেব মিলাতে সমস্যা দেখা দেয়। তখন হিজরী সনের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে সম্রাট আকবরের সভাসদ আমীর ফতেহ উল্লাহ সিরাজী নতুন সৌর সন উদ্ভাবন করেন, যার কার্যকারিতা সম্রাট আকবরের সিংহাসনে আরোহণের দিন ১৫৫৬ সাল বা ৯৯২ হিজরী।

পয়লা বৈশাখ নতুন আঙ্গিকে জীবন গড়ার শপথের দিন। পয়লা বৈশাখ রাষ্ট্রীয় কর পরিশোধের অঙ্গীকার গ্রহণের দিন। পয়লা বৈশাখ দেনা পাওনা আপডেট করার দিন। ইসলামে নির্দোষ বিনোদন ও উৎপাদনমুখী তৎপরতা সমর্থিত। বৈশাখী উৎসব ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত বাহিনীগুলোর বিশেষ তৎপরতা লক্ষ্যণীয়। তবে উৎসবের আড়ালে বিশৃঙ্খলা কাম্য নয়। আমরা মুসলমান। আমরা সবকিছুর ব্যাখ্যা বুঝবো ইসলামের আলোকে। ইসলামে বিজাতীয় অনুকরণ সমর্থিত নয়। প্রিয়নবী (সা.) বলেন- ‘যে অন্য কোন সম্প্রদায়ের অনুকরণ বা সাদৃশ্য গ্রহণ করবে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে।’ (আবু দাউদ : হাদীস নং ৩৫১২)
তাই বাংলা নববর্ষ উদযাপনের কার্যকলাপ ইসলামের বাইরে যেতে দেয়া যাবে না। মনে রাখতে হবে- আমাদের দ্বীন ও ঈমান ঠিক রেখেই আমাদের সব অনুষ্ঠান পালন করতে হবে। নতুন বছরে আমাদের জাতীয় সংহতি জোরদার এবং পুরনো বছরের সব গ্লানি মুছে ফেলে দেশ ও জাতিকে নতুন চেতনা ও জাগৃতির অঙ্গীকার করতে হবে।

[/vc_column_text][/vc_column][/vc_row]

পৃষ্ঠপোষক

  • বিচারপতি শামছুল হুদা
  • নূরুল ইসলাম খলিফা
  • কাজী শওকত হোসেন

উপদেষ্টা

  • মুফতী মুহাম্মদ তৈয়্যেব হোসাইন
  • মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী

সম্পাদক

  • ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল

নির্বাহী সম্পাদক
কাজী সিকান্দার