নারীদের ঈদ

0
1950
আফীফা ইফফাত তাসমিয়া

দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর প্রতিটি ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ঘরে আসে পবিত্র ঈদুল ফিতর অর্থাৎ খুশি ও আনন্দের ঈদ। ঈদে মুমিন মুসলমানদের জীবনে নেমে আসে এক অনুপম আনন্দের জোয়ারধারা। এই ধারা মুক্তিলাভের কৃতকার্যতার ও পুরস্কৃত হওয়ার। সিয়াম সাধনার পর আনন্দ করাটা দোষের কিছু নয় তবে তা যেন ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক হয়। রান্নাবান্নার আতিশয্যে যেন কোন অবস্থাতেই নামায ভুলে না যান। ঘরের যাবতীয় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখাসহ ঈদের সবরকম আনন্দ উপভোগ করাতে সাহায্য করতে পারে একজন স্ত্রী বা মা-বোন। ঈদের আমল শুধু মেয়েদের জন্য নয়, এটা সামগ্রিকভাবে সবার জন্য। আর এই আনন্দ, ভালোবাসাটুকু পরিবারের মধ্যে বিলিয়ে দিতে পারেন একজন সফল নারী। নারীরা তাদের আমলটুকু সুন্দর ও পরিচ্ছন্নভাবে পালন করলেই সমগ্র সমাজ ব্যবস্থা হবে কলুষযুক্ত। মহিলাদের জন্য ঈদের নামায বাধ্যতামূলক নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমাদের দেশে পুরুষ উপার্জন করে এবং স্ত্রী তার সন্তান-সন্ততিসহ পরিবারের সবাইকে নিয়ে ভালো ও সুন্দরভাবে থাকার অভ্যাস করে। ইসলামী শরীয়তমত ফিতরা দেয়া, দান-দক্ষিণা করা, গরিব আত্মীয়দের জন্য উপহারসামগ্রী কেনা এসবকিছু পুরুষের টাকায় নারীর সহযোগিতায় সমাধা হয়ে থাকে। সুতরাং ঘরকে সুন্দর ও পাপমুক্ত করা একজন ধার্মিক নারীর মহান কাজ। ঈদের দিন খুব ভোর বেলা ঘুম থেকে উঠে গোসল ও মিসওয়াক করা, সামর্থ্য অনুযায়ী পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন বা নতুন কাপড় পরা, সবাই মিলে হাসি-খুশি ও আনন্দে থাকা উচিত। এটাও ঈদের আমল পালনের মধ্যে পড়ে। ঈদের দিন সকাল- বেলা নামাযে যাওয়ার আগে তৈরি হয়ে মিষ্টি মুখ করে নামাযের জন্য বের হতে হয়। আর ঈদগাহে যাওয়ার সময় ফেরেশতারা রাস্তার মোড়ে মোড়ে অপেক্ষা করে, অভিনন্দন জানায়। পরিশেষে এতটুকু বলা যায়, ঈদের আমল শুধু মহিলাদের জন্য নয়, বরং সবার জন্য সেই আমল পালন করা বাঞ্ছনীয়; তবে আমরা যেহেতু ঘরে থাকি সুতরাং ঘর ও পরিবারের সবার ভালোমন্দ, সুখ-শান্তি সবকিছুই নির্ভরকরে ঘরের স্ত্রী বা মায়েদের ওপর। স্ত্রী বা মায়েরা যদি অ্যাকটিভ ও ইসলামী শরীয়ত মত খাওয়া-দাওয়া, পোশাক-পরিচ্ছদসহ সব কিছু সুন্দর ও পরিচ্ছন্নভাবে মেনে চলেন তবে তার আমল পূরণের সঙ্গে সঙ্গে সেই পরিবারটিও পরিপূর্ণতা পাবে। এ-ই হচ্ছে পবিত্র ঈদে মুসলিম নারীদের আমল।

তারাকান্দা, ময়মনসিংহ

LEAVE A REPLY