স্বাগতম হিজরী নববর্ষ-১৪৪১। অন্যায়, অসত্য, জুলুম আর জাহিলিয়্যাতের বিরুদ্ধে হিজরত সঙ্ঘঠিত হয়েছিল। মাতৃভূমির প্রতি প্রচণ্ড টান থেকে নবীজি বারবার পেছন ফিরে তাকাচ্ছিলেন। কাবার আকর্ষণ নবীজির বুকে ঝাঁকুনি দিচ্ছিল। কিন্তু দ্বীনের জন্য, আল্লাহর হুকুমকে গালিব করার জন্য নবীজিকে হিজরত করতে হয়েছিল। মহাকাশে নতুন করে আরেকবার চাঁদ আবর্তন শুরু করেছে। এটি সেই চাঁদ যা সৃষ্টির পর থেকে আল্লাহর হুকুমে অব্যাহতভাবে সময়ের পৃথিবী কেন্দ্রিক হিসাব ঠিক রেখেছে, চন্দ্র-সূর্য মিলিতভাবে হুসবানকে কায়েম রেখেছে। নতুন হিজরী বছরের শুরুর এই লগ্নে আমাদের অঙ্গীকার হোক অজ্ঞতা, অসত্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে। সমাজকে ইসলামের আলোকে বদলে দেয়ার শপথ হোক আমাদের হৃদয়ের মূল চেতনা। হিজরতের চেতনা হচ্ছে দ্বীনকে সবার উপরে স্থান দেয়া। ঈমানকে বাঁচিয়ে রাখতে যে কোন ত্যাগ স্বীকারে মুমিনের জীবন প্রস্তুত থাকে। নতুন বছরে সব লেখক, পাঠক, এজেন্ট, গ্রাহক, কর্মকর্তা, কর্মচারি সবাইকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আল্লাহ সবাইকে ঈমানী যিন্দেগী দান করুক, শরীর-স্বাস্থ্য ভালো রাখুক।
পৃথিবী সৃষ্টির শুরু হতেই আল্লাহর গণণায় মাসের সংখ্যা ১২টি। দুনিয়ায় চলমান সবকটি ক্যালে-ারে মাস ১২টি। আল্লাহর পক্ষ থেকে পূর্বে ৪টি মাসকে হারাম ঘোষণা করা হয়েছিল। এ মাসগুলোতে বেশ কিছু বিষয় নিষিদ্ধ ছিল। জাহিলিয়্যাতের সময়কার আরবরা হারাম মাসে কিছু করার প্রয়োজন হলে তা এড়ানোর জন্য বছরে মাসের সংখ্যা ১৩ বা ১৪ বানিয়ে নিত। এজন্য ১২ মাসের বিষয়টি আল্লাহ কুরআনে আবার কনফার্ম করে দেন- ‘আসমান ও যমিন সৃষ্টির দিন থেকেই আল্লাহ তাআলার বিধানে মাসের সংখ্যা ১২টি নির্ধারিত রয়েছে। আল্লাহ তাআলার কিতাবে, এ বারটির মধ্যে চারটি হচ্ছে হারাম মাস। এটা নির্ভূল ব্যবস্থা। অতএব তার ভেতরে তোমরা নিজেদের উপর জুলুম করো না।’ (সূরা-তাওবা : আয়াত-৩৬)
কারবালা এই নিষিদ্ধ ঘোষিত মাসেই সঙ্ঘঠিত হয়। হযরত হুসাইন (রাযি.) নিছক রাজনীতি কিংবা ক্ষমতার লড়াইয়ে ময়দানে যাননি। কুফার জন-সাধারণের আমন্ত্রনে জালেম শাসকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে তিনি গিয়েছিলেন। ৮/১০ যিলহজ্জ মক্কা থেকে রওয়ানা দিয়ে প্রায় ৯ শত মাইল পাড়ি দিয়ে ২ মহররম তিনি কারবালা পৌঁছান। সেখানে তাকে থামিয়ে দেয়া হয়। ইয়াযিদের প্রতি আনুগত্যের প্রস্তাব তিনি সাহসিকতার সাথে প্রত্যাখ্যান করেন। সামান্য কয়েকজন অনুসারী নিয়ে হাজারো-সহ¯্র বাহিনীর বিরুদ্ধে তিনি চ্যালেঞ্জে দাঁড়িয়ে যান। শহীদী মৃত্যুকে বেছে নেন, কিন্তু দ্বীন থেকে বিচ্যুত হননি। তার প্রত্যেক অনুসারী শহীদ হয়ে গেছেন কিন্তু আনুগত্যের বন্ধনমুক্ত করে দেয়ার পরও নেতাকে ছেড়ে যাননি। তাই আশুরা মানে হচ্ছে দ্বীনের জন্য কুরবানীর নমুনা, একতাবদ্ধ হওয়ার প্রেরণা, মাথা দেব কিন্তু সম্মান দেব না। জালেমের জুলুম আপনার উপর আরোপিত না হলেও প্রতিবাদ করতে হবে। মানবিক আচরণ শত্রুর সাথেও করতে হবে। কঠিন মুহুর্তে ধৈর্য ধরে কাজ করা ঈমানদারদের বৈশিষ্ট্য। আপনার ব্যক্তিগত অনুভূতি যাই হোক না কেন সামষ্টিক লক্ষ্য হচ্ছে গুরত্বপূর্ণ। সবকিছু হারিয়েও আল্লাহর উপর আস্থা হারাননি কারবালার জীবিত মুজাহিদরা। তাদের ঈমান সাহস যুগিয়েছে। হযরত হুসাইন (রাযি.)-এর বোন যয়নব বন্দী হন, চোখের সামনে ভাই, ভাতিজাসহ গণহত্যার শিকার হয়েছেন সবাই। দড়িতে বাঁধা অবস্থায় জালেম শাসকের সামনে তার বিরুদ্ধে কথা বলতে বিন্দুমাত্র বিচলিত হননি। তাই আশুরা শুধু মাত্র শোকের দিন নয়, শোককে শক্তিতে পরিণত করার দিন।
আজকে প্রতিটি দিনই আশুরা এবং প্রতিটি ভূমিই কারবালা এই বাস্তবতা মুসলিম দুনিয়ার। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে, হযরত আদম আলাইহিস সালাম থেকে শুরু করে কারবালা পর্যন্ত ইতিহাসের হাজারো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী এই আশুরা। এই আশুরায় আমরা মুসলমানরা সিদ্ধান্ত নিই নিজে ভালো মুসলমান ও ভালো মানুষ হব। মুসলমানদের ইস্পাত কঠিন ঐক্য ফিরিয়ে আনব। যে কোন অন্যায়ের প্রতিবাদ করব। আল্লাহ আমাদের কবুল করুন। আমীন।






